আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলাকে ‘ধর্মযুদ্ধ’ বা ক্রুসেড হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে চেচেন বাহিনী। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতে ইরানের পক্ষে লড়াই করার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে এই সশস্ত্র ইউনিট। তাদের ভাষায়, এই যুদ্ধ মুসলিম বিশ্বের জন্য একটি ‘জিহাদ’।
চেচেনিয়ার আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত এই ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতে অংশ নিয়ে আসছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী রমজান কাদিরভের অনুসারী এই যোদ্ধারা সাধারণত ‘কাদিরোভতসি’ নামে পরিচিত।
বিশ্বজুড়ে গেরিলা যুদ্ধকৌশলে পারদর্শী হিসেবে পরিচিত এই বাহিনী বিশেষ করে শহরভিত্তিক যুদ্ধ বা আর্বান ওয়ারফেয়ারে দক্ষ। ড্রোন অভিযান, স্নাইপার হামলা এবং বিশেষ কমান্ডো কৌশল ব্যবহার করে তারা বিভিন্ন অভিযানে অংশ নেয়। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধেও রাশিয়ার পক্ষে বড় ধরনের সামরিক সহায়তা দিয়েছে এই চেচেন যোদ্ধারা।
চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে এবার ইরানের পক্ষেও লড়াই করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে তারা। চেচেন স্পেশাল ফোর্স ‘আখমত’-এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ এক ভিডিও বার্তায় বলেন, রাশিয়া অনুমোদন দিলে তাদের বাহিনী দ্রুত ইরানে পৌঁছাতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ আগ্রাসন মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে এক ধরনের ধর্মযুদ্ধ। তাই মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় আপতি আলাউদিনভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘দাজ্জাল’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, চেচেন যোদ্ধারা তাদের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।
এদিকে চেচেন নেতা রমজান কাদিরভও এই যুদ্ধকে ঘিরে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুসলিম দেশগুলোর উচিত নিজেদের মধ্যে বিভেদ ভুলে একসঙ্গে দাঁড়ানো এবং ইরানের পাশে অবস্থান নেওয়া।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য শুধু চেচেন বাহিনীর অবস্থান নয়, বরং এর মাধ্যমে রাশিয়ার একটি পরোক্ষ রাজনৈতিক বার্তাও প্রকাশ পেতে পারে। যদিও রাশিয়া এখন পর্যন্ত সরাসরি এই সংঘাতে জড়ানোর কোনো ঘোষণা দেয়নি, তবে চেচেন বাহিনীর এ ধরনের বক্তব্যকে অনেকেই কৌশলগত সংকেত হিসেবে দেখছেন।
তাদের মতে, মস্কো হয়তো সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও নিজেদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইরানকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিকল্প কৌশল ব্যবহার করতে পারে। সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই চেচেন বাহিনীকে সামনে আনা হতে পারে।
চেচেন যোদ্ধারা অতীতে বিভিন্ন সংঘাতে সাহসিকতা ও কঠোর যুদ্ধকৌশলের জন্য পরিচিতি পেয়েছে। ফলে তারা যদি সত্যিই এই সংঘাতে অংশ নেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
আকাশজমিন / আরআর