ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

জ্বালানি সংকটের প্রভাব

সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেল বাজারে মন্দাভাব


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:২৪ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেল বিক্রি কমে গেছে, আর কাগজপত্র করতে জেলা বিআরটিএ অফিসে ভিড় বেড়েছে। জ্বালানি সরবরাহে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও লাইসেন্সবিহীন মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়ার প্রভাব বাজারে স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে। ফলে নতুন ও পুরাতন মোটরসাইকেল বিক্রি কমেছে, পাশাপাশি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বুধবার (১ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা গেছে, জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনের কড়াকড়ি মোটরসাইকেল চালকদের বৈধ কাগজপত্র তৈরিতে উৎসাহিত করছে। বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক চালক বৈধ কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে তাদের দৈনন্দিন চলাচলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

ফুয়েল কার্ডধারী এক ব্যক্তি তাড়া‌শের খালকুলা পাম্পে পেট্রোল নিতে আসলে বলেন, “আমার কার্ডে আজকের জন্য ২ লিটার তেল বরাদ্দ আছে। কিন্তু পাম্পে তেল পাওয়া গেল না। যেটুকু তেল দেওয়া হচ্ছে, তার নিশ্চয়তা কোথায়! তখন আমার প্রয়োজন কিভাবে পূরণ হবে?” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এবং বলেন, “অনেক পাম্পে তেল পাওয়া যাচ্ছে না, দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশেও তেলের দাম ও সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাব সিরাজগঞ্জে স্পষ্ট, যেখানে পাম্পগুলোতে সংকট পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের আবেদন। সিরাজগঞ্জ জেলা বিআরটিএ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ৬৭৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ৪৫৭টি এবং মার্চে ৬৬৪টি ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়েছে। একই সময়ে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনের জন্য জানুয়ারিতে ২৭৩টি, ফেব্রুয়ারিতে ২২০টি এবং মার্চে ১৪১টি আবেদন করা হয়েছে।

মোটরসাইকেল বিক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করছে। সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট সেই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ক্রেতারা নতুন কিংবা পুরাতন মোটরসাইকেল কেনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। শহরের এস.বি ফজলুল হক রোডের আলতাফ কমপ্লেক্সের শোরুমের মালিক বেলাল হোসেন বলেন, “জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যবসা প্রায় বন্ধের পথে। আগে যেখানে মাসে কিছু বিক্রি হতো, এখন পুরো মাসেও একটি মোটরসাইকেল বিক্রি হচ্ছে না।”

একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী মো. রাসেল শেখ বলেন, “গত বছরের মাঝামাঝি থেকে বিক্রি কমতে শুরু করেছে। এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ। জ্বালানি সংকটের কারণে বাজার প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।”

পুরাতন মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। এক ব্যবসায়ী বলেন, “গাড়ি কিনতেও পারছি না, বিক্রিও করতে পারছি না। ঈদের মৌসুমেও বিক্রি নেই। কর্মচারীদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।”

সিরাজগঞ্জ বিআরটিএর এক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি সংকট ও প্রশাসনের কড়াকড়ির কারণে মানুষ এখন বৈধ কাগজপত্র তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছেন। ঈদের ছুটির কারণে আবেদন কিছুটা কম হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবেদন আরও বাড়তে পারে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সড়ক শৃঙ্খলা ফেরাতে লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া মোটরসাইকেলে জ্বালানি সরবরাহ না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে।

সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসনের এই উদ্যোগ স্বল্পমেয়াদে মোটরসাইকেল বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত হলে দুর্ঘটনা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মোটরসাইকেল চালকরা বলছেন, “জ্বালানি সংকট ও কঠোর প্রশাসনিক নিয়মের কারণে বাধ্য হয়ে বৈধ কাগজপত্র তৈরিতে আগ্রহী হচ্ছি। এটি আমাদের দৈনন্দিন চলাচলে সুবিধা দেবে, কিন্তু বিক্রি কমে যাওয়ায় ব্যবসা স্থবির হয়ে গেছে।”

জ্বালানি সংকট ও বৈধ কাগজপত্রের কড়াকড়ির প্রভাব বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ের জন্যই স্পষ্ট। একদিকে বিক্রেতারা বিক্রি কমে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত, অন্যদিকে চালকরা বৈধ কাগজপত্র তৈরি করতে ব্যস্ত। স্থানীয় বাজারে সাময়িক মন্দাভাব দীর্ঘমেয়াদে সড়ক নিরাপত্তা ও পরিবহন ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশাবাদী সচেতন মহল।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর