ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড শুক্রবার দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। এই বিমানটি ইরানের মধ্যাঞ্চলের আকাশে চলাচলের সময় লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ তাদের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, মার্কিন যুদ্ধবিমানটি “সম্পূর্ণ ধ্বংস ও বিধ্বস্ত” হয়েছে। বিমানটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পাইলটের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইরানের মেহের বার্তাসংস্থা জানিয়েছে, বিমানটিতে থাকা পাইলট সম্ভবত বের হতে পারেননি। কারণ বিমানটি এত দ্রুত বিধ্বস্ত হয়েছে যে পাইলটের জন্য কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে এর আগে ইরানের বিমান ভূপাতিত করার দাবি যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছিল। বর্তমানে এই ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা চলছে।
এফ-৩৫ হল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান, যা মূলত নজর এড়ানোর ক্ষমতা ও আধুনিক সিসটেম দিয়ে সজ্জিত। এটি সাধারণত হুমকির ক্ষেত্রেও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং বিভিন্ন ধরনের আক্রমণ পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হয়। ইরানের দাবি অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ফলে তাদের আকাশসীমায় কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি পাবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই হামলার পর মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইরান কিছু অংশে এই নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজের হাতে নিয়েছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। কারণ, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার বিষয়টি শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। যদি এই দাবি সত্য হয়, তা মার্কিন সামরিক কৌশল ও অস্ত্রশক্তির ওপর একটি বড় প্রতিকূল প্রভাব ফেলবে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
মহাদেশীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ইরানের আকাশসীমা ও উপসাগরীয় রুটগুলো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আঞ্চলিক কোনো সংঘাত বা হুমকি এই রুটে জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক কৌশল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবির মধ্য দিয়ে ইরান একটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা দিচ্ছে। তারা দেখাচ্ছে যে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক ও কার্যকর, যা আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক শক্তির জন্য নজরকাড়া হুমকি হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যে উত্তেজনায় জড়িয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এই ধরনের দাবির ফলে বিশ্বমঞ্চে একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাবও তৈরি হচ্ছে। অনেক দেশ এই ঘটনা নজরদারি করছে এবং ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রভাব কেমন হবে তা পর্যবেক্ষণ করছে।
এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত হওয়ার দাবির প্রেক্ষিতে মার্কিন কৌশলগত প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ ধরনের ঘটনার সত্যতা যাচাই করছে, তবে সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা আকাশসীমা নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারে।
ইরান এই দাবি করে তার কৌশলগত অবস্থান দৃঢ় করছে। তাদের বার্তা স্পষ্ট: আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রভাব বিস্তার করা হবে।
বর্তমানে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক স্টিলথ যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি সত্য হলে, তা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশলে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।