ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

আমিরাত ও কুয়েতে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা, আগুনে বিপর্যয়


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ০৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:২৬ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবসান গ্যাস স্থাপনা এবং কুয়েতের একটি বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলার পর আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সংঘটিত এই হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

আমিরাতের আবুধাবি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিহত করা মিসাইল বা ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ হাবসান গ্যাস স্থাপনার ভেতরে পড়ে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে স্থাপনাটির উৎপাদন কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও, উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের হামলা শুধু একটি দেশের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এর প্রভাব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়ে।

অপরদিকে কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে তাদের একটি বিদ্যুৎ ও পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়। এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কিছু অংশে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ শুরু করেছে বলে জানানো হয়েছে।

এর আগে একই দিনে কুয়েতের একটি তেল পরিশোধনাগারেও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলায় আগুন ধরে যাওয়ায় সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। ধারাবাহিক এই হামলাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের কৌশলে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুরুতে হামলা সামরিক স্থাপনাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা চালায় দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো শুরু করে। বিশেষ করে মার্কিন সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িত না থাকলেও তাদের ভূখণ্ডে হামলার ঘটনা বাড়ছে। ফলে তারা এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। দেশটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে শক্তি প্রয়োগ করা হয়, তবে তারা এতে অংশ নিতে পারে। এই ইস্যুটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এখানে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়বে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগও বাড়ছে। কারণ যুদ্ধের বিস্তার যত বাড়বে, ততই এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলে। বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চলতে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি করতে পারে।

সব মিলিয়ে আমিরাত ও কুয়েতে সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর