আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ডুমসডে’র নমুনা দেখানোর দাবি করেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে পাল্টা জবাব দিয়ে যাচ্ছে তেহরান। ইরানের দাবি, তাদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও মিত্র ঘাঁটি কেঁপে উঠেছে।
সংঘাতের ষষ্ঠ দিনে গত ৫ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘মিনিটম্যান-৩’ (এলএমজি ৩০) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এই ক্ষেপণাস্ত্রকে সাধারণভাবে ‘ডুমসডে’ অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর থেকেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় আসে।
‘ডুমসডে’ শব্দটি নিয়ে এর আগেও আলোচনা হয়েছিল। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশে একটি বিশেষ সামরিক বিমান উড়তে দেখা যায়, যেটি ‘ডুমসডে প্লেন’ নামে পরিচিত। পারমাণবিক হামলার মধ্যেও টিকে থাকার সক্ষমতা থাকা এই বিমানকে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশে ভাসমান সামরিক কমান্ড সেন্টার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেকোনো ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও এই বিমানে বসে দেশটির শাসনব্যবস্থা পরিচালনা এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ৩৫তম দিনে গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা একাধিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
প্রথমে তেহরান দাবি করেছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ভূপাতিত করেছে। পরে জানা যায় সেটি ছিল এফ-১৫ যুদ্ধবিমান। এছাড়া কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের এ-১০ ওয়ার্টহগ অ্যাটাক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করে ইরান।
ইরানের সামরিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক উড়োজাহাজে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস, একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত, দুটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি হেলিকপ্টারে আঘাত এবং একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা।
এছাড়া শিরাজ অঞ্চলে একটি উইং লুং-২ ড্রোন, তিনটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি হার্মিস ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে ইরান। একই সঙ্গে দুটি বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান জরুরি সংকেত পাঠিয়েছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া দুটি ক্রুজ মিসাইল ও কয়েকটি সুইসাইড ড্রোন ধ্বংসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের দাবি, এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সামরিক বার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতে এমন ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা গত কয়েক দশকে খুব কমই দেখা গেছে।
এর আগে ২০১১ সালের ৬ আগস্ট আফগানিস্তানে একটি চিনুক হেলিকপ্টার ভূপাতিত হয়ে ৩১ মার্কিন সেনা নিহত হয়, যা আফগান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একদিনে সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ছিল। এছাড়া ২০০৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ইরাকে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও বিদ্রোহী হামলায় একদিনে ৩৭ মার্কিন সেনা নিহত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে এবং এর প্রভাব বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও পড়তে পারে।