ইরানের খুজেস্তান প্রদেশের মাহশাহ অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী বিশেষ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আক্রমণ চালিয়েছে। প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ভ্যালিওল্লাহ হায়াতি জানিয়েছেন, আজ শনিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রাদেশিক রাজধানী আহভাজের পূর্ব ও পশ্চিম অংশে তিনটি বিস্ফোরণ ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
কিছুক্ষণের মধ্যেই, ১০টা ৪৭ মিনিটে মাহশাহ’র পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় আরও তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে ফজর ১, ফজর ২, রেজাল ও আমির কবির পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
উক্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, হামলার সময় কর্মীরা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ অর্থনৈতিক এলাকার জরুরি কমান্ড কমিটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। মাহশাহ ও বন্দর-ই ইমাম খোমেনি থেকে কোনো ক্ষতিকারক পদার্থ বের হয়ে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোর জন্য বিপদ সৃষ্টি করছে না।
এছাড়া বেলা ১১টার দিকে খোররামশাহরের শলামচেহ সীমান্ত বাণিজ্য টার্মিনালেও হামলা চালানো হয়। এতে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান এরপর আবু আলী পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে আঘাত হানে এবং পরে বন্দর-ই ইমাম খোমেনি স্থাপনায় আংশিক ক্ষতি করে।
হামলায় মাহশাহর ও বন্দর-ই ইমাম খোমেনিতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। তবে তুচ্ছ আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহতরা দ্রুত সুস্থ হচ্ছেন এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
এই হামলা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পকে লক্ষ্য করায় আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুতর প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে ইরানের অর্থনীতি ও রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়তে পারে। হামলার প্রেক্ষিতে ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সতর্ক করেছে।
মাহশাহ অঞ্চলে অবস্থিত ফজর ১, ফজর ২, রেজাল ও আমির কবির কারখানাগুলো মূলত পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে ব্যবহার হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব স্থাপনার ওপর হামলা ইরানের জ্বালানি ও শিল্প খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
খুজেস্তান প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি পুরোপুরি চালু রাখা হয়েছে। স্থানীয় শ্রমিকরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, হামলার সময় কোনো বিস্ফোরিত পদার্থ শহরের জনবসতি এলাকায় ছড়ায়নি। কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে পরিবেশগত ও জনস্বাস্থ্যগত কোনো ঝুঁকি তৈরি না হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক সীমান্তের নজরদারি জোরদার করেছে।
আকাশজমিন / আরআর