ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। ফার্স নিউজ জানিয়েছে, এই তথ্য একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করা ওই সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবটি গত বুধবার একটি বন্ধু দেশের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছে। যদিও দেশটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাব বা তার সত্যতা নিয়ে কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক উত্তর না দিয়ে তারা যুদ্ধের তীব্রতা বাড়িয়েছে এবং মাঠে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী ক্রমাগত উত্তেজনা ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠানোর চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে মার্কিন সামরিক গুদামে হামলার পর এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইরান এই প্রস্তাবের কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর না দিয়ে হামলার পাল্টা জবাব দিয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে। এই হামলায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ১,৩৪০ জন নিহত হয়েছেন। তেহরানও প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জোর দিয়েছে যে তারা তাদের দেশের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে তারা যেকোনো সময় শত্রুপক্ষকে মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনকভাবে প্রভাবিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের নীতির অংশ হিসেবে আঞ্চলিক শক্তি প্রদর্শন এবং মার্কিন হস্তক্ষেপ প্রতিহত করার কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এই পরিস্থিতির প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই উত্তেজনা চলাকালে তেহরান জানিয়েছে, তারা শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে প্রস্তুত এবং তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ স্তরে রক্ষা করছে। সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এই বার্তা দেয় যে, ইরান তার জাতীয় ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় অটল।
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা প্রতিশোধ এ অঞ্চলের জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর