ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

কেন্দুয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘর পুড়ে ছাই, আহত ৫


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:০২ পিএম

নেত্রকোনার কেন্দুয়া পৌরসদরের চিরাং মোড় শান্তিবাগ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত তাপস ব্যানার্জীর বসতবাড়ির একটি কক্ষে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত পাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন লাগায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

প্রথমে স্থানীয়রা নিজ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান। তারা পানি ও বালু দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

অগ্নিকাণ্ডে আগুন নেভাতে গিয়ে অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমন মিয়া, টিভি মেকানিক সজল, সাংবাদিক সালমান আহম্মদ, গণঅধিকার পরিষদের নেতা রুহি কে রনি এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মী আজিজুল হক। গুরুতর আহতদের কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে কয়েকটি পরিবারের বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী পুড়ে যায়। এতে ভাড়াটিয়া পরিবারগুলো সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অনেকেই জীবন বাঁচাতে ঘর ছেড়ে দ্রুত বের হয়ে আসেন। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও আর্থিক ক্ষতি ব্যাপক হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাতুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি ময়মনসিংহে অবস্থান করছিলেন। পরে সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক সংযোগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা প্রদান করতে হবে। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক লাইনের ত্রুটি ও ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগগুলো দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর