ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে কেন নিজেদের দুই উড়োজাহাজ ধ্বংস করল যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৫১ পিএম

ইরানে ভূপাতিত হওয়া একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে দুঃসাহসিক অভিযানে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের দুটি উড়োজাহাজ ধ্বংস করতে হয়েছে। শনিবার রাতে পরিচালিত এই অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম জটিল সামরিক তৎপরতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, অভিযানে অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেস’। তারা শত্রুদেশের গভীরে প্রবেশ করে নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনে। তবে পুরো অভিযান ছিল সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা ও ঝুঁকিতে পরিপূর্ণ।

ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার, যখন ইরান দাবি করে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। যুদ্ধবিমানটিতে দুজন ক্রু ছিলেন—একজন পাইলট এবং অন্যজন অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তা। আঘাতের পর দুজনই ককপিট থেকে ইজেক্ট করে বেরিয়ে যান।

পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও অস্ত্রব্যবস্থা–সংক্রান্ত কর্মকর্তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে তাকে উদ্ধারে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানও নিখোঁজ ওই মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাতে থাকে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করার জন্য দুই দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কার্যত প্রতিযোগিতা চলে। উভয় পক্ষই তাকে আগে খুঁজে পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়, কারণ এই ঘটনার কৌশলগত গুরুত্ব ছিল অত্যন্ত বেশি।

এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় কয়েক শ মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সদস্য। পাশাপাশি আকাশপথে সহায়তা দেয় কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত সাইবার, মহাকাশ ও গোয়েন্দা সক্ষমতাও ব্যবহার করা হয়।

ক্রু যেখানে লুকিয়ে ছিলেন, সেই এলাকায় পৌঁছাতে মার্কিন বাহিনীকে ব্যাপক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। ইরানি বাহিনীকে দূরে রাখতে আকাশ থেকে বোমা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে এবং এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়।

অভিযান সম্পর্কে অবগত সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ক্রুর কাছে পৌঁছানোর সময় সংঘর্ষের ঝুঁকি ছিল অত্যন্ত বেশি। তবুও বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কমান্ডোরা পরিস্থিতি সামাল দিয়ে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া ক্রুর কাছে আত্মরক্ষার জন্য একটি পিস্তল ছিল, যা তাকে কিছুটা নিরাপত্তা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ধারের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া। এ জন্য দুটি পরিবহন উড়োজাহাজ পাঠানো হয়। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উড়োজাহাজ দুটি ইরানের একটি প্রত্যন্ত ঘাঁটিতে আটকে পড়ে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় দ্রুত আরও তিনটি উড়োজাহাজ পাঠানো হয় সহায়তার জন্য। তবে আটকে পড়া উড়োজাহাজ দুটি শত্রুপক্ষের হাতে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হলে সেগুলো ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন বাহিনী।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, কৌশলগত কারণে এবং প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে উড়োজাহাজ দুটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ধ্বংস করা হয়। যাতে সেগুলো ইরানের হাতে পড়ে সামরিক তথ্য ফাঁস না করতে পারে।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যে এলাকায় যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হয়, সেখানে সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর উপস্থিতি ছিল। ফলে নিখোঁজ ক্রু চাইলে স্থানীয়দের সহায়তা পেতে পারতেন। তবে বিষয়টি ইরানের সামরিক বাহিনীর নজরে এলে তারা দ্রুত তল্লাশি জোরদার করে এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা চায়।

ইরান সরকার নিখোঁজ ক্রুকে খুঁজে বের করতে পুরস্কারও ঘোষণা করে। এতে পরিস্থিতি আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে ওঠে।

এই অভিযানের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসের অন্যতম জটিল ও দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দক্ষতা, সমন্বয় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি অনন্য উদাহরণ দেখা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অভিযান কেবল সামরিক শক্তি নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর নির্ভর করে। প্রতিকূল পরিবেশে সফলভাবে অভিযান সম্পন্ন করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তবে একই সঙ্গে নিজেদের দুটি উড়োজাহাজ ধ্বংস করার ঘটনা এই অভিযানের ঝুঁকি ও জটিলতার মাত্রাও স্পষ্ট করে তুলেছে। সামরিক কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি কঠিন কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সার্বিকভাবে, নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে পরিচালিত এই অভিযান আধুনিক সামরিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর