ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাংকার

বাংকার মেরামত করে দ্রুত পাল্টা হামলা, গোয়েন্দা রিপোর্ট


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:১০ পিএম

মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর টানা হামলার পরও ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি—বরং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাংকার ও সাইলো পুনরুদ্ধার করে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে, যা চলমান সংঘাতের বাস্তব চিত্রকে আরও জটিল করে তুলেছে।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ভূগর্ভস্থ বাংকার ও ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো খুঁড়ে বের করছেন ইরানি সেনারা। অনেক ক্ষেত্রে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তারা এসব স্থাপনাকে পুনরায় সচল করে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন। এতে করে ইরান উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও মোবাইল লঞ্চার পুনরুদ্ধার করতে পারছে।

চলতি সপ্তাহে পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছে। পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানে প্রায় ১১ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তবে একই সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা এখনো সম্ভব হয়নি। বরং ইরান এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লঞ্চার ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে সক্ষম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের একটি প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ‘মারাত্মকভাবে’ কমিয়ে দেওয়া। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একাধিকবার বক্তব্য দিয়েছেন। তারা দাবি করেন, ইরানের হামলার হার কমে এসেছে এবং তাদের সামরিক শক্তি দুর্বল হয়েছে।

পিট হেগসেথ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “হ্যাঁ, তারা এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে। তবে আমরা সেগুলো গুলি করে ভূপাতিত করব।” তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান থেকে সবচেয়ে কমসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। তার মতে, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এবং তাদের উৎপাদন স্থাপনার দুই-তৃতীয়াংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ইরানের আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এসব দাবির পরও বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, ইরান তাদের লঞ্চারগুলো রক্ষায় অত্যন্ত কৌশলী পদ্ধতি ব্যবহার করছে। তারা বাংকার, গুহা এবং পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রেখে এসব লঞ্চার সংরক্ষণ করছে, যাতে বিমান হামলা থেকে সেগুলো রক্ষা পায়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিমান হামলায় কোনো বাংকার ধ্বংস হয়েছে বলে মনে হলেও, বাস্তবে ভেতরের লঞ্চারগুলো অক্ষত থেকে যায়। এরপর ইরানি সেনারা দ্রুত বুলডোজার দিয়ে মাটি সরিয়ে লঞ্চারগুলো বের করে আবারও ব্যবহার করছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মরিয়া। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে কিংবা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতেও তারা এ অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়।

বর্তমানে ইরান দিনে গড়ে ২০টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কিছু পশ্চিমা কর্মকর্তা বলছেন, এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে—প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৫০ থেকে ১০০টি একমুখী ড্রোন ছোড়া হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি একটি তেল শোধনাগারের স্থাপনা ও জ্বালানি ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান অনেক সময় ভুয়া ক্ষেপণাস্ত্র বা ডিকয় ব্যবহার করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র নিশ্চিত হতে পারছে না, তারা আসল কতগুলো লঞ্চার ধ্বংস করতে পেরেছে। এই বিভ্রান্তি যুদ্ধের কৌশলগত হিসাবকে আরও জটিল করে তুলছে।

এছাড়া ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক কোন্দলও তাদের যুদ্ধ পরিচালনায় প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা কিছুটা কমে এসেছে।

তবুও, সামগ্রিকভাবে ইরান এখনো তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধরে রেখেছে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের প্রকৃত সামরিক সক্ষমতা নির্ধারণ করা। কারণ, বাংকার ও গুহায় লুকিয়ে রাখা লঞ্চার এবং ভুয়া লক্ষ্যবস্তু ব্যবহারের কারণে সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে শুধু শক্তিশালী অস্ত্রই নয়, বরং কৌশল, ছদ্মবেশ এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার ক্ষমতাও বড় ভূমিকা রাখে। ইরান সেই কৌশলগুলো দক্ষতার সঙ্গে প্রয়োগ করছে বলেই মনে হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, মার্কিন হামলার পরও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি—বরং তারা দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। ফলে এই সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর