ইরানের হামলায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান ব্যর্থ করে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর খাতাম আল-আম্বিয়ার মুখপাত্র রোববার (৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্য ইরানের ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত একটি সমন্বিত সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর একাধিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
ইরানের দাবি অনুযায়ী, আইআরজিসি, নিয়মিত সেনাবাহিনী (আর্তেশ), বাসিজ বাহিনী এবং পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীকে প্রতিহত করা হয়। এতে মার্কিন বাহিনীর দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং একটি সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানি সামরিক মুখপাত্র আরও জানান, বিধ্বস্ত মার্কিন উড়োজাহাজগুলো ইসফাহানের দক্ষিণাঞ্চলে জ্বলন্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে। তিনি এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে তিনি ১৯৮০ সালের এপ্রিলে ইরানে পরিচালিত মার্কিন বাহিনীর ব্যর্থ ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’-এর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার তুলনা টানেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যেমনটি অতীতে ঘটেছিল, তেমনি এবারও ইরান তাদের ভূখণ্ড রক্ষায় সফল হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অভিযানকে সফল হিসেবে প্রচার করে ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন। তবে ইরান এটিকে তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইরানের এই দাবির বিষয়ে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষই তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ফলে এক পক্ষের দাবি অপর পক্ষ অস্বীকার করছে—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে আকাশপথে সংঘর্ষের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ইরানের দাবি সত্য হয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সামরিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নীরবতা কৌশলগত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ঘটনাটি সত্য-মিথ্যা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা কঠিন। তবে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবি প্রমাণ করে, সংঘাতের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে।
সার্বিকভাবে, নিখোঁজ পাইলট উদ্ধারের এই অভিযান ঘিরে দুই পক্ষের বিপরীতমুখী বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।