আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শনিবার দুপুরে ৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং ফিলিপাইন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় তালাউদ দ্বীপে। ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল তালাউদ দ্বীপ থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে, যা ভূপৃষ্ঠের ৯৯ কিলোমিটার গভীরে ঘটেছে। মিন্দানাও দ্বীপটি ফিলিপাইনের সারাঙ্গানি প্রদেশের অন্তর্গত।
দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিকরা সতর্ক থাকলেও পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইন—দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ—ভৌগলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের ‘আগ্নেয় মেখলা’ বা ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত। এই কারণে ভূমিকম্প এ অঞ্চলে প্রায় নৈমিত্তিক ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত দেশগুলোতে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা সব সময় থাকে।
চলতি শতকে ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পটি হয়েছিল ২০০৪ সালে। ৯ দশমিক ১ মাত্রার সেই ভূমিকম্প ও তার সৃষ্ট সুনামিতে দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ। সেই দুর্যোগের কারণে ব্যাপক ধ্বংস এবং অগণিত মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় নাগরিকরা জানান, ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব হওয়ায় তারা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসেছেন এবং নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন। স্থানীয় প্রশাসনও জনসাধারণকে সতর্ক থাকতে বলেছে এবং ভূমিকম্প পরবর্তী প্রস্তুতি চালাচ্ছে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মিন্দানাও এবং তালাউদ দ্বীপের ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের ক্রিয়াশীলতার কারণে এই কম্পন ঘটেছে। যদিও শক্তি মাঝারি মাত্রার, তবে রিং অব ফায়ার অঞ্চলে অবস্থানকারীদের জন্য সতর্ক থাকা জরুরি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বর্তমানে কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষতির খবর না থাকায় পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে। তবে সাময়িক ক্ষয়ক্ষতি এবং ভবিষ্যতের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
মোটকথা, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের জন্য ভূমিকম্প একটি পরিচিত দুর্যোগ হলেও স্থানীয় প্রশাসন এবং নাগরিকদের সতর্কতা প্রদর্শন জরুরি। বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পন বা আফটারশকের জন্য প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দিচ্ছেন।
আকাশজমিন / আরআর