ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

ইরানের মধ্যে যেভাবে উদ্ধার করা হলো মার্কিন পাইলটকে


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:২৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিখোঁজ মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটকে জীবিতভাবে উদ্ধার করার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার ইস্টার সানডের প্রথম প্রহরে তিনি নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এই অভিযান সফল হওয়ার কথা ঘোষণা করেন। খবর আল জাজিরার।

ট্রাম্প বলেন, “একটি ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও বিশেষ উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে। অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে এবং শত্রুর একেবারে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা ওই সম্মানিত পাইলট কিছুটা আহত হলেও তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন। আমাদের সরাসরি নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী তাকে অক্ষত উদ্ধার করতে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সমরাস্ত্রের সঙ্গে সজ্জিত ডজনখানেক বিমান ব্যবহার করেছে।”

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শত শত বিশেষ অভিযান বাহিনীর কমান্ডো সদস্য এই গোপন অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। মার্কিন কমান্ডোরা ইরানের ভূখণ্ডের গভীরে প্রবেশ করে পাইলটকে উদ্ধার করেন এবং নিরাপদে দেশ থেকে বের করেন। অভিযানটি রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে শুরু হলেও দিনের আলো ফোটার আগে শেষ হয়।

তবে পুরো অভিযানটি পরিকল্পনা অনুযায়ী মসৃণভাবে এগোয়নি। উদ্ধারকালে চারপাশ থেকে গর্জে ওঠা ইরানি বাহিনীর হালকা ও ভারী অস্ত্রের গোলাগুলির মধ্যে মার্কিন কমান্ডোরা পাইলটকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, এর আগে শনিবার প্রথম উদ্ধার অভিযানেও একজন পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় উদ্ধার অভিযানটি বড় ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে এবং শত্রু সতর্ক হয়ে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় প্রথম অভিযান প্রকাশ করা হয়নি। ট্রাম্প বলেন, “সামরিক ইতিহাসে এটি প্রথমবার যে শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে ঢুকে পৃথকভাবে দুজন মার্কিন পাইলটকে অক্ষত উদ্ধার করা হলো। আমরা কখনোই আমাদের বীর যোদ্ধাকে একা ফেলে আসি না।”

উদ্ধার হওয়া দ্বিতীয় পাইলট একজন ‘অত্যন্ত সম্মানিত কর্নেল’ এবং বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শত্রুদের পেছনে অবস্থান করলেও কখনো একা ছিলেন না। মার্কিন স্যাটেলাইটের মাধ্যমে তার অবস্থান প্রতিমুহূর্তে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এর আগে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শক্তিশালী সামরিক বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছিল। পারস্য উপসাগরে সংঘর্ষের পর একটি মার্কিন ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ গ্রাউন্ড-অ্যাটাক বিমানও ইরানি বাহিনী আছড়ে ফেলেছে বলে তারা জানিয়েছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের বার্তায় প্রতিভাত হয় সাহস, সংগঠন ও কৌশল। এই উদ্ধার অভিযান বিশ্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দক্ষতা ও শত্রুর প্রতি প্রভাব দেখিয়েছে। পাইলটদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং কমান্ডো বাহিনীর দক্ষতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে উঠে এসেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর