আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে তাঁর দেশ। আজ সোমবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান নেতানিয়াহু।
নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। শত্রুর ভূখণ্ড, অর্থাৎ ইরান থেকে ক্রু উদ্ধারের সাহসী সিদ্ধান্তের পাশাপাশি নিখুঁতভাবে মার্কিন অভিযান সম্পন্ন করার জন্য তিনি ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই অভিযানে ইসরায়েলের সহায়তার জন্য ট্রাম্প কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রের ভেতরে ও বাইরে তাঁদের সহযোগিতা নজিরবিহীন। একজন সাহসী আমেরিকান যোদ্ধাকে বাঁচাতে ইসরায়েল অবদান রাখতে পারায় তিনি অত্যন্ত গর্বিত।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ–১৫ই যুদ্ধবিমান গত শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে ভূপাতিত হয়। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করে তারা যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করেছে। দুই দিন ধরে অনুসন্ধান চালানোর পর গত সপ্তাহান্তে ইরানের একটি পাহাড়ি এলাকা থেকে যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ এক ক্রুকে উদ্ধার করেন মার্কিন কমান্ডোরা।
এই অভিযান আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শত্রু ভূখণ্ডে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের জন্য ইসরায়েলের সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত অগ্রাধিকারকে প্রমাণ করেছে। নেতানিয়াহুর মতে, এই ধরনের যৌথ অভিযান কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, কূটনৈতিকভাবে ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।
নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প উভয়ই এই অভিযানের স্বীকৃতি দিয়ে তা কৌশলগত জয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে এমন পরিস্থিতিতে যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র, একসাথে কাজ করে একটি সেনা উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন করা একটি উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক ও সামরিক সাফল্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ধরনের যৌথ অভিযান দেশগুলোর মধ্যে সামরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করবে। পাশাপাশি, এটি বিপজ্জনক অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের জীবন রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগ এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। দেশ দুটি মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখতে এবং সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এই ধরনের যৌথ অভিযানকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাচ্ছে।
এই উদ্ধার অভিযান মার্কিন বাহিনীর প্রশিক্ষণ, ইসরায়েলের প্রযুক্তি ও কৌশলগত সহায়তার ফলাফল হিসেবে সফল হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও সামরিক জয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান