মাত্র কয়েক দিন আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইস্তেহারিত উত্তেজনার মাঝেই ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। জেরুজালেম, তেল আবিব এবং এলিয়াতে এই বিস্ফোরণের প্রতিধ্বনি ধরা পড়ায় কার্যত দেশটির নাগরিকরা আতঙ্কিত হয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, দেশটির সামরিক বাহিনী ইরান থেকে আসা নতুন ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার পর সতর্কতা সংকেত বাজিয়েছে এবং এর সাথে সাথে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে — যা স্থানীয়দের মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করেছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, এলিয়াতকে ইয়েমেন থেকে আসা একটি ড্রোন প্রযুক্তিগতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা চালিয়েছে, যার ফলে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের আরুৎজ সেভা মিডিয়া এমন সংবাদের সমর্থনে বলেছে যে ইরান, লেবানন এবং ইয়েমেন থেকে সমন্বিত হামলাসহ কিছু যুদ্ধাত্মক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। যদিও এই দাবিগুলোর নির্দিষ্ট বর্ণনা এখনও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রদানে কিছুটা বিরত থাকলেও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মকর্তারা বলেছেন যে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয় নাগরিকদের জন্য অ্যারিয়াল সতর্কতা সংকেত দেওয়া হয়েছে এবং শহরগুলোতে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ করার জন্য।
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন, যাদের ইরানের সমর্থন রয়েছে, তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সময় সময় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে পূর্বের অভিযানে, যদিও সাম্প্রতিক বিস্ফোরণজনিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তারা এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। পূর্বের হুথি ড্রোন হামলাগুলোতে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এলিয়াতে মানুষ আহত হয়ে থাকলেও সাম্প্রতিক বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে এই ধরণের হামলা ও প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা যে যুক্তিসম্মত কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা শিথিল করা হবে, তা না হলে এই সংঘর্ষ মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ বারবার বৃদ্ধি পেতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোই ইসরায়েল ও ইরান উভয়ের প্রতি নিজেদের নীতি পুনরায় যাচাই করছে এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের বড় পরিসরে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।