ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

হরমুজ খোলার হুমকি ট্রাম্পের, ইরান বললো ‘চাবি হারিয়ে গেছে’!


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:১০ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও হুমকির জবাবে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটি রসিকতার সুরে বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস জানায়, তারা ‘চাবি খুঁজে পাচ্ছে না’। একইভাবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের মিশনও মজার ছলে মন্তব্য করে—‘চাবিটি ফুলের টবের নিচে, তবে এটি শুধু বন্ধুদের জন্য।’

এই মন্তব্যগুলোর মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর দেওয়া আলটিমেটামকে কটাক্ষ করা হয়েছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ চালু না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানো হতে পারে। এই ধরনের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ এই নৌপথের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

বর্তমানে এই প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যেই তেলের দাম ওঠানামা করছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে যে সংঘাতের সূচনা হয়েছিল, তা এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

অন্যদিকে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হলে তারা ‘ধ্বংসাত্মক’ পাল্টা জবাব দেবে। ইতোমধ্যে তারা আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক প্রস্তুতি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তাও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

চলমান এই সংঘাতে ইতোমধ্যে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। মানবিক সংকটের পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান না এলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বব্যাপী অনুভূত হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর