ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬ দেশে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৯৮২ জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান

দেশে এখনও ২৮৪৭ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই: শিক্ষামন্ত্রী


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৪৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশের ২ হাজার ৮৪৭টি গ্রামে এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

প্রশ্নে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে কি না; না থাকলে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা কত এবং ওই গ্রামগুলোতে সরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সরকারের আছে কি না।

উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘না, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সারা দেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা ঢাকা বিভাগে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুর বিভাগে ৩৭টি, খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি, বরিশাল বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি। এতে সর্বমোট বিদ্যালয়বিহীন গ্রাম সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮৪৭টি।’

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব এলে প্রয়োজনীয়তা ও সংশ্লিষ্ট শর্তাদি বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারের লক্ষ্য দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।’

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংখ্যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বিশেষ করে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যালয় না থাকার কারণে শিশুদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত হচ্ছে। এ ধরনের এলাকায় সরকারি বিদ্যালয় না থাকায় অনেক শিশু বেসরকারি অথবা পার্শ্ববর্তী গ্রামের বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে দূরত্ব, পরিবহন ও আর্থিক কারণে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করতে এবং শিশুদের প্রতি সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে নতুন বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা সরকার গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রস্তাবিত এলাকাগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া, শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে উল্লেখিত বিভাগ অনুযায়ী বিদ্যালয়বিহীন গ্রামগুলোর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৭১৭টি গ্রাম, চট্টগ্রাম ৮১৮টি, রাজশাহী ৩৫৫টি, রংপুর ৩৭টি, খুলনা ৩৪৯টি, বরিশাল ৪৫টি, সিলেট ২৬০টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি গ্রামে এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

সাধারণ জনগণ ও শিক্ষাব্যবস্থার পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, এই সংখ্যা কমানো হলে দেশের শিক্ষার মান এবং শিশুদের মৌলিক শিক্ষার সুযোগ বাড়বে। সরকার এবং শিক্ষা বিভাগ এখন প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট ও নীতি নির্ধারণে কাজ করছে।

শিক্ষামন্ত্রী এই অধিবেশনে আরও বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার সমতা ও বেসরকারি শিক্ষার উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া, শিশুদের মানসিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

আকাশজমিন / আরআর     


এ সম্পর্কিত আরো খবর