সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 117
রেজাউল করিম ঝন্টু , সিরাজগঞ্জ
চলনবিল অঞ্চলে চাহিদা অনুযায়ী ডিজেল সরবরাহ না থাকায় মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সেচ কার্যক্রম। এতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় অনেক ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলনবিল অঞ্চলে সেচের প্রধান মাধ্যম ডিজেলচালিত পাম্প। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ না থাকায় সেচ কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ডিজেল কিনছেন, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে জমি শুকিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও নাটোর জেলার চলনবিলসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অধিকাংশ পাম্পচালকই নির্ধারিত কোটায় ডিজেল পাচ্ছেন না। ফলে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় কম সময় পাম্প চালাতে পারছেন তারা। এতে করে জমিতে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা সরাসরি ফসল উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের কৃষক শফিকুল বলেন, ‘ধানের জমিতে এখন নিয়মিত পানি প্রয়োজন। কিন্তু ডিজেল না পেলে পাম্প চালাবো কীভাবে? বাধ্য হয়ে বেশি দামে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। এতে খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি সময়মতো চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে চলতে থাকলে ফলন কমে যাবে এবং কৃষকদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
পাম্প মালিকরাও একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্ধারিত ডিপো বা পাম্প থেকে পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জ্বালানি তেল সরবরাহকারীরা জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে তারা দাবি করেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ. কে. এম মনজুরে মাওলা বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পৌঁছে দিতে প্রশাসন এবং সেচ পরিচালনা কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিয়নে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করছেন এবং কার্ডের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কৃষকসহ সাধারণ মানুষ যাতে তেল পান, সে লক্ষ্যে পাম্পগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। খুব দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে শুধু কৃষকরাই নয়, সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে চলনবিল অঞ্চলে ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর