পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং রাওয়ালপিন্ডিতে দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ও শুক্রবার এই ছুটি কার্যকর থাকবে। সরকারি ও জেলা প্রশাসনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই দুইদিনে সকল প্রকার স্কুল, সরকারি এবং প্রাইভেট অফিস বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি কাজে নিয়োজিত সেবা এই ছুটির আওতায় পড়বে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হঠাৎ ঘোষিত ছুটির সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সফর বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আগে পাকিস্তানে নিরাপত্তার স্বার্থে এমন ছুটি দেওয়াটা একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা।
এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান নিতে চাইছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় অংশ নেবে।
অন্যদিকে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, ইরানি প্রতিনিধিদলও রাতে পাকিস্তানে পৌঁছাবে। তারা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করবে।
নিরীক্ষকরা বলছেন, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক কূটনীতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান। ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে এই ছুটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বৈঠকগুলোর পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য করা হয়েছে। বিশেষ করে, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদল যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে না পড়ে, সেজন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান প্রায়ই এমন কূটনৈতিক সফরের আগে শহরে জরুরি ছুটি ঘোষণা করে থাকে। এতে স্কুল, অফিস এবং সাধারণ জনজীবন সীমিতভাবে প্রভাবিত হয়। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেবা চলমান থাকে।
এই দুই দিনের ছুটি পাকিস্তানের জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বানও দেয়। সাধারণ মানুষ এবং অফিস কর্মীরা এই সময়ে তাদের দায়িত্বপূর্ণ কাজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে নেবে। সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে এবং অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যকার সংলাপের গুরুত্ব অপরিসীম।