ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:০৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। অন্য ২৮ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়ের একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় প্রধান আসামিরা ছিলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন, এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র।

রায়ের বিবরণ

  • মৃত্যুদণ্ড: এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র।
  • যাবজ্জীবন কারাদণ্ড: সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন এবং ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন।
  • দীর্ঘ মেয়াদী কারাদণ্ড: বেরোবির তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ১০ বছরের কারাদণ্ড।
  • মধ্যম মেয়াদী কারাদণ্ড: সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম ৫ বছরের কারাদণ্ড।

মামলার শুনানিতে ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডটি শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

আবু সাঈদ ছিলেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উদ্যমী শিক্ষার্থী। তিনি দেশের গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের সময় প্রথম শহিদ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছেন। তার হত্যার ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিস্ময় এবং ক্ষোভ সৃষ্টি করেছিল।

রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন নিহতের পরিবার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং কিছু সাংবাদিক। আসামিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগ ছিল মানবতাবিরোধী এবং সরকারি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের দায়িত্বের গাফিলতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে রায়ের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মামলার অন্য আসামিরা বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড পেয়েছেন, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, রায় ঘোষণা করা হলেও যথাযথ আপিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যাবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর