আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ও মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পৌঁছেছেন। যুদ্ধবিরতি বজায় থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে শঙ্কা থাকায় স্টারমারের এই সফরকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্টারমারের সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। সম্প্রতি ইরান লেবাননের ওপর ইসরায়েলের চলমান হামলাকে যুক্তবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে। এ অবস্থায় স্টারমার সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফর করে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার উপায় খুঁজছেন।
স্টারমার এর আগে জেদ্দায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া ও সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরপরই তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
বিদেশি কূটনৈতিকরা মনে করছেন, স্টারমারের এই সফর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরি করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদে রক্ষা পেতে আন্তর্জাতিক দম্পতির মধ্যস্থতা প্রয়োজন।
বিবিসি তথ্য মতে, স্টারমারের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর শান্তি আলোচনার একটি অংশ এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পরিকল্পিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্টারমারের সফর ও বৈঠকগুলো কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সংঘাত কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী সমঝোতার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য কার্যকর মধ্যস্থতা করতে সক্ষম হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র মধ্যে স্থিতিশীলতা না থাকলে লেবানন, সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ অন্যান্য অঞ্চলেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। এই কারণে স্টারমারের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সফরের একাংশ হিসেবে, স্টারমার স্থানীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমঝোতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাবেন।