আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘দয়া দেখানোর পথ’ বেছে নেওয়াতেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। তার ভাষায়, চূড়ান্ত সামরিক চাপের মুখে তেহরান যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে বাধ্য হয়েছে।
বুধবার পেন্টাগনে এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রত্যাখ্যান করত, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও তেল-জ্বালানি অবকাঠামোতে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হতো। এর ফলে ইরানের পুনর্গঠন করতে কয়েক দশক সময় লাগত। তবে পরিস্থিতি বুঝে ইরানের নেতৃত্ব আলোচনার পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে এমন সামরিক সক্ষমতা ছিল, যা কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরানের অর্থনীতি অচল করে দিতে পারত। হেগসেথ বলেন, “কিন্তু তিনি করুণা দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধবিরতির জন্য মূলত ইরানই আগ্রহ দেখিয়েছে।
একই ব্রিফিংয়ে হেগসেথ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “অপারেশন এপিক ফিউরি ছিল ঐতিহাসিক ও অপ্রতিরোধ্য” এবং এতে ইরানের সামরিক বাহিনী কার্যত অক্ষম হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “গত ৪৭ বছর ধরে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যে হুমকি ছিল, এখন তা আর নেই।”
হেগসেথের দাবি, মাত্র ৪০ দিনেরও কম সময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তির একটি অংশ ব্যবহার করেই ইরানের মতো একটি বড় সামরিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে নির্ধারিত প্রায় সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির ক্ষেত্রে সরাসরি সামরিক মোতায়েনের কথা নাকচ করেছেন তিনি। তিনি জানান, ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত বাহিনী পাঠাবে না। তবে মার্কিন সেনারা আগের অবস্থানেই থাকবে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
হেগসেথ আরও জানান, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হলে ইসরায়েলে মুহূর্তে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সামরিক সক্ষমতা এবং নির্ধারিত অভিযানের কারণে তেহরানকে আর কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে হয়নি। তিনি সামরিক শক্তি ব্যবহারের যে প্রস্তুতি দেখিয়েছেন, তার প্রভাবেই ইরান আলোচনার পথে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে যে অবস্থান দেখিয়েছে, তা ইরানের জন্য চূড়ান্ত সতর্কতা হিসেবে কাজ করেছে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য ছিল শুধু ধ্বংস নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।” হেগসেথের ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের করুণা এবং কূটনৈতিক চাপ মিলিত হয়ে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্ভব করেছে।