আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিরিয়ার সরকার লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু বেসামরিক লোক নিহত ও আহত হয়েছেন। হামলার ফলে লেবাননের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ধ্বংসের সৃষ্টি হয়েছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতসহ অন্যান্য অঞ্চলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে অন্তত ১০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন এবং এক হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলার পর ইরান হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে বলে দেশটির সরকারি গণমাধ্যমে জানা গেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরে এই হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই কার্যকলাপ নিন্দনীয় এবং এটি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি হামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট নয়। তবে সিরিয়া এবং লেবাননের কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। সিরিয়ার সরকার দাবি করেছে, এই হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
হামলার পরে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। সমুদ্রপথ বন্ধের ফলে জাহাজগুলোর চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে পরবর্তীতে ইরান বিকল্প পথের ঘোষণা দিয়েছে, যা কিছু পরিমাণে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করবে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও তেলের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, ইসরায়েলের এই হামলার বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হোক। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের দাবি করেছে।