আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ৯ এপ্রিল হরমুজ প্রণালির জন্য বিকল্প পথের ঘোষণা দিয়েছে। প্রধান সমুদ্রপথে মাইন থাকার ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কারণে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে এই বিকল্প পথ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তেহরান প্রণালিটি সাময়িকভাবে পুনরায় খোলার সম্মত হয়েছে। তবে, এখনো স্পষ্ট নয় কতটি জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচল করতে পারছে।
এই সংকীর্ণ সমুদ্রপথটি বিশ্বের তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, লেবাননে ইরানের মিত্রদের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম একটি জাহাজ-ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গেছে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ প্রণালির কাছে এসে ফিরে গেছে। ক্যাপশনে উল্লেখ ছিল, ‘হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ, ফলে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ফিরে যাচ্ছে।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রণালির বন্ধ থাকার খবর মিথ্যা। তিনি বলেন, এই পথে চলাচলকারী জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। লেভিট আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রণালিটি খোলা রয়েছে।
একই সময়, বাণিজ্যিক জাহাজ দালাল সংস্থা এসএসওয়াই বিবিসি ভেরিফাইকে নিশ্চিত করেছে, উপসাগরের জাহাজগুলো আইআরজিসির কাছ থেকে বার্তা পেয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে, ‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে এবং এই পথ দিয়ে যেতে হলে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর অনুমতি প্রয়োজন। অনুমতি ছাড়া প্রবেশের চেষ্টা করলে জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে ধ্বংস করা হবে।’
ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) স্থানীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে চলাচল করতে চাওয়া সব জাহাজকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ম মেনে চলতে হবে। মাইনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। তাই নিরাপত্তার জন্য বিকল্প পথ ব্যবহার করা উচিত। স্থানীয় গণমাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ঢোকা ও বের হওয়ার বিকল্প পথের নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য তেহরানের ওপর চাপ দিচ্ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুমকি দিয়েছিলেন, যদি প্রণালি না খোলা হয় তবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শেষ মুহূর্তে, ৭ ও ৮ এপ্রিল মধ্যরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। মার্চের শুরু থেকেই তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেছিল। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পর্যবেক্ষণ করছেন, বিকল্প পথ ব্যবহারের মাধ্যমে তেলের পরিবহন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে কিনা। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় সাময়িকভাবে বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা আসতে পারে, তবে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণই রয়েছে।