ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান লেবাননে ইসরায়েলি হামলাকে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই হামলা যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে চলার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিচ্ছে এবং আলোচনাগুলো অর্থহীন করে তুলবে। পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরান লেবাননের জনগণের পাশে থাকবে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফও লেবাননকে যুদ্ধবিরতির ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, লেবানন এবং সমগ্র প্রতিরোধ অক্ষ ইরানের মিত্র হিসেবে যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। গালিবাফ সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা গুরুতর পরিণতি ডেকে আনবে।
এদিকে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক পরের দিন ইসরায়েল লেবাননে বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হুমকি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর ওপর সরাসরি হামলা চালাবে।
লেবাননের এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। ইরান এবং তার মিত্ররা বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, লেবাননের বিরুদ্ধে আক্রমণ তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং তারা প্রতিরোধ অক্ষের সঙ্গে একত্রে লেবাননের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
উল্লেখ্য, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। কিন্তু ইসরায়েলি হামলা এই চুক্তির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি দ্রুতই নতুন রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে।
গালিবাফ বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি শুধু স্থানীয় নয়, এটি সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। ইরান যুদ্ধবিরতি রক্ষা করতে এবং লেবাননের জনগণকে সমর্থন দিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া, তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের হামলা ভবিষ্যতে বড় পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আরও নিবদ্ধ হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হয়েছিল, কিন্তু ইসরায়েলের হামলা সেই প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করেছে।
সূত্র: আল–জাজিরা।