আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্য ও ইরান ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের পর কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।
বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে দেওয়া হুমকি ও রাজনৈতিক বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। শনিবার (১১ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১৯৬৭ সালে অনুমোদিত এই সংশোধনীটি মূলত প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা বা পদ শূন্য হলে দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য তৈরি করা হয়। জন এফ কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পর এটি যুক্তরাষ্ট্রের শাসন কাঠামোয় যুক্ত করা হয়।
এই সংশোধনীর ৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি মনে করেন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তবে তারা তাকে সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন। তবে প্রেসিডেন্ট সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
এ পর্যন্ত এই ধারা কখনোই বাস্তবে প্রয়োগ হয়নি। যদিও ৩ নম্বর ধারা একাধিকবার ব্যবহার হয়েছে, বিশেষ করে চিকিৎসাজনিত কারণে প্রেসিডেন্ট সাময়িকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করার ক্ষেত্রে।
২০২১ সালে জো বাইডেন একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় সাময়িকভাবে ক্ষমতা ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে হস্তান্তর করেন। তবে ৪ নম্বর ধারা কখনো কার্যকর হয়নি।
এর আগে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে সহিংস ঘটনার পর ডেমোক্র্যাটরা তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সকে এই সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধারা ব্যবহার করে প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করা অত্যন্ত কঠিন। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিষয়টি রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। কারণ অতীতেও ইমপিচমেন্টের মাধ্যমে ট্রাম্পকে অপসারণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে তারা অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে।
রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে সমালোচনা করছেন।