অনলাইন রিপোর্টার
রাজধানীর লালবাগ থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক স্পিকার Shirin Sharmin Chaudhury-কে জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটির শুনানি শেষে বিচারক শর্তসাপেক্ষে এই জামিন আদেশ দেন। এর ফলে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলমান থাকলেও আপাতত কারাগারের বাইরে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন সাবেক এই স্পিকার। আইনজীবীরা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলাকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব শর্ত মেনে চলতে হবে তাকে।
এর আগে গত ৭ এপ্রিল ভোরে রাজধানীর একটি আত্মীয়ের বাসা থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত বছরের ১৮ জুলাই লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন ভুক্তভোগী মো. আশরাফুল ওরফে ফাহিম। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় আসামিদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। এতে তার বাম চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরবর্তীতে চোখটি কার্যত নষ্ট হয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন, অর্থাৎ ১৭ জুলাই, ভুক্তভোগী আশরাফুল লালবাগ থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়, যার মধ্যে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর নামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
আইনজীবীরা বলছেন, এই মামলার তদন্ত এখনও চলমান এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রমাণ-উপাত্ত সংগ্রহের কাজ করছে। আদালত জামিন দিলেও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। পরবর্তী শুনানিতে মামলার অগ্রগতি এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে নতুন নির্দেশনা আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দেশের রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। এসব মামলার অগ্রগতি ও বিচার প্রক্রিয়া ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, জামিন পাওয়ার পর শিরীন শারমিন চৌধুরীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তার আইনজীবীরা আশা প্রকাশ করেছেন, মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে সত্য উদঘাটিত হবে এবং তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।