ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৭ বছর পর মুক্ত আকাশ দেখল কারাগারে জন্ম নেওয়া শিশু

বিসিএস নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনছে পিএসসি


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:৪২ পিএম

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) দীর্ঘদিনের জট, ধীরগতি এবং নিয়োগের অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ধরনের সংস্কার ও পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক বিশেষ প্রতিবেদন উপস্থাপনের মাধ্যমে পিএসসি এই নতুন পরিকল্পনাগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরে।

২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করা নতুন কমিশনের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তৈরি এই প্রতিবেদনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে ‘ওয়ান বিসিএস, ওয়ান ইয়ার’ নীতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ একটি বিসিএস পরীক্ষা এক বছরের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিয়োগ জট কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া নিয়োগ কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনায় মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) নম্বর ১০০ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে মেধা যাচাই প্রক্রিয়া আরও নিরপেক্ষ ও মানসম্মত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিএসসি জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ যেকোনো অনিয়ম রোধে নিজস্ব নিরাপদ প্রেস স্থাপন এবং আধুনিক ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হবে। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অটোমেশনের আওতায় আনার ফলে খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। যেখানে আগে খাতা মূল্যায়নে প্রায় ছয় মাস সময় লাগত, সেখানে এখন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পরীক্ষার্থীদের আর্থিক চাপ কমাতে বিসিএস আবেদন ফি ৭০০ টাকা থেকে কমিয়ে ২০০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম বলেন, এক সময় পিএসসি প্রায় অকার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তিনি বলেন, পুরনো সমস্যা চিহ্নিত করে কমিশনকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, এই সংস্কারের মাধ্যমে মেধাবী ও যোগ্য প্রার্থীরা দ্রুত সরকারি চাকরিতে যুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিয়োগ জট ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই সংস্কার কার্যক্রম শুধু বিসিএস পরীক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং নন-ক্যাডারসহ অন্যান্য নিয়োগ পরীক্ষাতেও একই ধরনের স্বচ্ছতা ও গতি নিশ্চিত করা হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করা হবে। পাশাপাশি বিসিএস পরীক্ষায় দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনি কাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর