যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপিত নৌ-অবরোধ সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে সমানভাবে এবং নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে নয়, বরং সমানভাবে প্রযোজ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের উপকূলীয় এলাকা ও বন্দরগুলোতে প্রবেশ করা কিংবা সেখান থেকে বের হওয়া যেকোনো দেশের জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবরোধ কার্যকর রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার মোতায়েন করা হয়েছে। এসব যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রপথে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি সাধারণ ডেস্ট্রয়ারে ৩০০-এর বেশি প্রশিক্ষিত নৌসেনা থাকেন, যারা আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক উভয় ধরনের সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনায় সক্ষম। তাদের দক্ষতা ও প্রস্তুতি এই অবরোধ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক সূত্রের মতে, এই অবরোধের মাধ্যমে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নৌচলাচল কার্যক্রমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলেও বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রপথে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে জ্বালানি পরিবহন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও সংকট দেখা দিতে পারে।