ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

দক্ষিণ লেবাননে ভয়াবহ মানবিক সংকট, বাড়িঘর ছাড়ছে লাখো মানুষ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:৫২ পিএম

লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান হামলার কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে হাজার হাজার শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। হামলার মুখে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া এসব মানুষের মধ্যে শিশুদের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেশি। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যার মধ্যে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি শিশু রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার কারণে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতবাড়ি, অবকাঠামো এবং জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে হাজার হাজার পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে এসব বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়কে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে, যেখানে বাস্তুচ্যুত শিশুরা অবস্থান করছে। সেখানে শিশুরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকার কারণে তারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তাহীন পরিবেশে বড় হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ছে। অনেকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আরও ভেতরের দিকে সরে যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিচ্ছে সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণকেন্দ্রে।

জাতিসংঘের তথ্যে আরও বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে বড় একটি অংশ নারী ও শিশু, যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপত্তার অভাবে মানবিক সংকট ক্রমেই গভীর হচ্ছে।


অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় শিশুদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে অতিরিক্ত ভিড়, পর্যাপ্ত খাবারের অভাব এবং চিকিৎসা সেবার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত চলতে থাকলে এই মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। শিশুদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক মহল লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক করিডর নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে আক্রান্ত মানুষদের নিরাপদে সহায়তা পৌঁছানো যায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সংকট মিলিয়ে অঞ্চলটি এক ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর