যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা আগামী সোমবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরানি সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, বৈঠকে অংশ নিতে দুই দেশের প্রতিনিধিদল আগামীকাল রোববারই ইসলামাবাদে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।
এর আগে ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি আলোচনা কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। ফলে নতুন দফার এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও কূটনৈতিক আশার পাশাপাশি উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথ খুঁজে বের করাই এবারের বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক বেশ উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে। একদিকে নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে আস্থা সংকট আরও গভীর হয়েছে। এর মধ্যেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন দেশে পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকে কোনো ধরনের চুক্তি না হলেও উভয় পক্ষ আলোচনার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার নতুন দফার আলোচনার আয়োজন করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে যেতে পারে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এদিকে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরানের কোনো সরকারি বিবৃতিতে ইসলামাবাদে আসন্ন বৈঠক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দুই পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজতে আগ্রহী।
বিশ্ব রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তা আঞ্চলিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি অতীতেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।
সব মিলিয়ে ইসলামাবাদে আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই আলোচনা কোনো নতুন সমঝোতার দিকে অগ্রসর হয় কি না, সে দিকেই এখন নজর বিশ্ব সম্প্রদায়ের।