ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে এই কঠোর অবস্থান জানায় তেহরান।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সম্পদ। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, “ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরানের মাটির মতোই পবিত্র। কোনো অবস্থাতেই এটি দেশের বাইরে স্থানান্তর করা হবে না।”
এই মন্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া সেই প্রস্তাব ও দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিল ইরান, যেখানে বলা হয়েছিল পারমাণবিক উপাদান বা এর অবশিষ্টাংশ যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে বড় আকারের খনন যন্ত্র ব্যবহার করে পারমাণবিক স্থাপনার অবশিষ্টাংশ বা তথাকথিত ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ সংগ্রহ করতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা থেকে এই উপাদান উত্তোলনে বড় যন্ত্রের প্রয়োজন হবে এবং পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা যেতে পারে। ট্রাম্প এই প্রক্রিয়াকে “সহজ” বলেও উল্লেখ করেন।
তবে ইরান এই প্রস্তাবকে সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য বলে জানিয়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও জ্বালানি স্বনির্ভরতার সঙ্গে সম্পর্কিত, যা কোনোভাবেই বিদেশি নিয়ন্ত্রণ বা স্থানান্তরের আওতায় আসতে পারে না।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে দুই দেশের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধপূর্ণ, এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো সেই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে কেন্দ্র করে এই নতুন বিতর্ক ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।