নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তান যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করায় আলোচনার নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত মাইক ওয়াল্টজ এবং জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance-ই নেতৃত্ব দেবেন। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে শেষ মুহূর্তে তাঁর সফর বাতিল করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, “শুধুমাত্র নিরাপত্তার কারণেই জেডি এই সফরে যাচ্ছে না। তিনি অত্যন্ত দক্ষ একজন মানুষ।” তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উদ্বেগই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ভেন্যুতে উচ্চপর্যায়ের সফরের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের টানাপোড়েন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতি এই উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এদিকে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট নিরসনে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ভাইস প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতি আলোচনার গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে মার্কিন প্রশাসন এখনো আলোচনায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিনিধি দল যথাসময়ে ইসলামাবাদে পৌঁছাবে এবং নির্ধারিত আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
সূত্র: আল–জাজিরা