আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি জাহাজ জব্দ করার পর পাল্টা হিসেবে মার্কিন সামরিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই পাল্টাপাল্টি ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম বার্তা সংস্থার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করার পর ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ হামলায় কতটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বা মার্কিন বাহিনীর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ইরানের বন্দর আব্বাস বন্দরের দিকে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজে গুলি চালিয়ে সেটি জব্দ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত নৌ অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ‘তুসকা’ নামের ওই জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল এবং এটি অবৈধভাবে চলাচলের চেষ্টা করছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর মার্কিন মেরিনরা জাহাজটিতে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
ট্রাম্প আরও বলেন, বর্তমানে জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এর ভেতরের মালামাল যাচাই করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ইরানের সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেয় এবং একে ‘সশস্ত্র জলদস্যুতা’ হিসেবে উল্লেখ করে। ইরানি পক্ষের দাবি, মার্কিন বাহিনী জাহাজটির নেভিগেশন ব্যবস্থা অচল করে দিয়ে সেটি দখল করেছে।
ইরানের সামরিক মুখপাত্র হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ঘটনার যথাযথ জবাব খুব শিগগিরই দেওয়া হবে। অন্যদিকে প্রথমে জাহাজ জব্দের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ইরান সেটি স্বীকার করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত দ্বিতীয় দফা আলোচনায় তারা অংশ নেবে না। তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন, অতিরিক্ত দাবি এবং নৌ অবরোধ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ যুদ্ধবিরতির স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এটি সরাসরি সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।