শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে এক বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ) দুপুরে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহটি স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মৃত যুবক শিপন হাওলাদার (২৫) বরগুনা সদরের বাসিন্দা এবং সবেজ হাওলাদারের ছেলে। দীর্ঘ প্রায় ১৯ মাস পর তার মরদেহ দেশে ফিরল, যা পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন শিপন হাওলাদার। এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাকে আটক করে এবং পরবর্তীতে স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আদালতের মাধ্যমে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং মেঘালয়ের তুরা কারাগারে পাঠানো হয়।
সূত্র আরও জানায়, আগামী ২৮ এপ্রিল তার কারাভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই গত বৃহস্পতিবার কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। কর্তৃপক্ষ তাকে দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করে। তবে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু ঘটে।
শিপনের মৃত্যুর পর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এর অংশ হিসেবে তার পরিচয় নিশ্চিতকরণ, কাগজপত্র যাচাই এবং আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক একটার দিকে নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়। এ সময় বিজিবি, বিএসএফ এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মরদেহটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হলে স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিপন হাওলাদার জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তার পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এ ঘটনায় সীমান্তে অবৈধ যাতায়াতের ঝুঁকি ও এর ভয়াবহ পরিণতি আবারও সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বারবার সতর্ক করলেও অনেকেই জীবিকার তাগিদে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পথে পা বাড়ান, যা কখনও কখনও প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।