আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থেমে নেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি। বরং এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের আরও শক্তিশালী করছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সুযোগে সেনাবাহিনী নতুন করে অস্ত্রসজ্জিত হওয়া, সরঞ্জাম আধুনিকায়ন এবং রণকৌশল পুনর্গঠনের কাজ জোরদার করেছে।
সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী এটিকে স্থায়ী স্বস্তির সময় হিসেবে দেখছে না। বরং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাতের জন্য তারা নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার কৌশল নিচ্ছে। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুরোনো সামরিক সরঞ্জাম আপডেট করা, নতুন প্রযুক্তি সংযোজন এবং যুদ্ধ পরিচালনার কৌশল পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দ্রুত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম এবং যুদ্ধবিরতির সময়কে তারা সেই সক্ষমতা আরও বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের রণকৌশল ও কর্মপদ্ধতি নতুন করে সাজাচ্ছি, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিশ্বের অন্য কোনো সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের মতো দ্রুত নিজেদের অভিযোজিত করতে পারে না। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধবিরতির এই সময় আমাদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির সময় সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করার বিষয়টি নতুন নয়। বড় শক্তিগুলো সাধারণত সাময়িক শান্ত পরিস্থিতিকে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করার জন্য ব্যবহার করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মতো অঞ্চলে, যেখানে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রায়ই সামরিক উত্তেজনায় রূপ নেয়, সেখানে এমন প্রস্তুতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তুতি ভবিষ্যৎ যেকোনো সংঘাতের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে থাকা বিভিন্ন ইউনিট আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই সক্রিয়তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা পরিস্থিতিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পরিবর্তে সম্ভাব্য নতুন উত্তেজনার প্রস্তুতি হিসেবেই বিবেচনা করছে।
আকাশজমিন/ আরআর