ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বকেয়া ৬৭ কোটি টাকা


সৈয়দপুরে বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বকেয়া ৬৭ কোটি টাকা

  • আপলোড সময় : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৮:১৬ পিএম

নীলফামারীর সৈয়দপুরে অবস্থিত বিভিন্ন বিহারি ক্যাম্পে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া উদ্বেগজনক হারে বেড়ে প্রায় ৬৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধ না করা এবং অবৈধ সংযোগের বিস্তারের কারণে পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

Northern Electricity Supply Company Limited (নেসকো) সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পগুলোতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ২৪টি মিটারের মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে বিল পরিশোধ না হওয়ায় চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭ কোটি ৬ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৮ সালে হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে ক্যাম্পের বাসিন্দারা নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার লাভ করেন। এর আগে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত এসব ক্যাম্পের বিদ্যুৎ বিল সরকার বহন করত। পরবর্তীতে বাসিন্দাদের নিজ নিজ বিল পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাম্পে কেন্দ্রীয় মিটার থাকলেও ভেতরে ব্যাপকভাবে অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার চলছে। অনেক ক্ষেত্রে মূল লাইন থেকে সরাসরি সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, অবৈধ সংযোগ বজায় রাখতে কিছু জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে লোড বেশি রেখে লাইন সচল রাখা হয়, যাতে বিচ্ছিন্ন না হয়।

এ অবস্থায় বিদ্যুতের অপচয় যেমন বাড়ছে, তেমনি অগ্নিকাণ্ড ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত সংযোগ ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির কারণ হতে পারে।

এদিকে মিটারের বাইরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সঠিক হিসাব না থাকায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্প এলাকায় ছোট ছোট কক্ষে একাধিক পরিবার বসবাস করে। অধিকাংশ ঘরেই ফ্যান, লাইট, মোবাইল চার্জার, টেলিভিশন ও ফ্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে, যার বড় অংশই অবৈধ সংযোগনির্ভর।

নেসকোর সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিমুল ইসলাম সেলিম বলেন, ক্যাম্পে পৃথকভাবে মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নিলেই বাধার মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিয়ে কাজ বন্ধ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিক পর্যায়ে ধীরে ধীরে মিটার স্থাপন সম্ভব হলেও আবাসিক পর্যায়ে এটি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘদিন বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ব্যবহারের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে না আসা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বকেয়া ও অবৈধ সংযোগের এই সংকট ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, যা পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর