অনলাইন রিপোর্টার
দেশের দুই জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সহকারী সচিব মো. ইসমাইল হোসেন।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (উপসচিব) মাজহারুল ইসলামকে ফরিদপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা ইয়াসমিনকে শেরপুর জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে এবং মাঠ প্রশাসনকে আরও কার্যকর করতে এই ধরনের পরিবর্তন নিয়মিতভাবেই করা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এদিকে একই দিনে আরেকটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঢাকার নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ফরিদা খানমকে। তিনি এর আগে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর তাকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, ঢাকার বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিমকে তার বর্তমান পদ থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের ভেতরে এই ধরনের রদবদলকে নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হয়।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মাঠ প্রশাসনে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা বিবেচনা করেই এই ধরনের নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন ডিসিরা তাদের নিজ নিজ জেলায় সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি এবং জনগণের সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
বিশেষ করে ফরিদপুর ও শেরপুর জেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে এই নিয়োগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রমে গতি আনতে এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন জেলা প্রশাসকদের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে সরকার।
এছাড়া মাঠ পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণেও তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সমস্যা দ্রুত সমাধান করাও তাদের অন্যতম দায়িত্ব।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে এবং সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।