ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

আলোচনায় অংশ নিতে বিশেষ দূত ও জামাতাকে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১:০৭ পিএম

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে পাকিস্তানে পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদে ইরান ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় আগ্রহের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরানিরা আলোচনা করতে চায়।” একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, আলোচনা সফল হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পরবর্তী ধাপে অংশ নিতে পারেন।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও তার প্রতিনিধি দল শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। তিনি বলেন, আরাগচি পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই। তার মতে, ইরানের অবস্থান ও বার্তা পাকিস্তানের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।

হোয়াইট হাউসের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইরানের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, তেহরানের এখনো একটি “ভালো চুক্তিতে” পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে, তবে এর জন্য পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্যভাবে পরিত্যাগ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধ আরও বিস্তৃত হচ্ছে এবং এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রভাব ফেলছে।

হরমুজ প্রণালি, যা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট, সেখানে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই এলাকায় জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিশ্ব অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে সংলাপের সুযোগ এখনো খোলা রয়েছে। তার ভাষায়, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের অবস্থানে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।

ইসলামাবাদে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি আলোচনার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রশাসনের প্রকাশ্য কঠোর অবস্থান এবং আড়ালের কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যে এক ধরনের দ্বৈত কৌশল কাজ করছে। একদিকে চাপ প্রয়োগ, অন্যদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখা—এই দুই কৌশলের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, অবরোধ এবং হুমকি অব্যাহত থাকলে কার্যকর আলোচনা সম্ভব নয়। দেশটির সংসদীয় পর্যায়ের নেতারাও হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় প্রশ্ন হলো, পাকিস্তানে সম্ভাব্য এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি সত্যিই কোনো স্থায়ী সমঝোতার দিকে এগোতে পারবে, নাকি উত্তেজনা আরও দীর্ঘায়িত হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর