মার্কিন ফেডারেল অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য নতুন তিনটি বিকল্প পদ্ধতির অনুমোদনের উদ্যোগ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট তীব্র হয়ে ওঠায় এই নতুন ব্যবস্থা বিবেচনায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এখন থেকে ফায়ারিং স্কোয়াড, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে মৃত্যুদণ্ড এবং গ্যাসের মাধ্যমে শ্বাসরোধ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিচার বিভাগের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব বিকল্প পদ্ধতির সুপারিশ করা হয়েছে, যেখানে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের বিকল্প ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে ২০২১ সালে নিজের প্রথম মেয়াদের শেষ দিকে দীর্ঘ ২০ বছরের বিরতি ভেঙে ফেডারেল পর্যায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময় মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে ১৩ জন ফেডারেল বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময় আরোপিত ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ দেশজুড়ে প্রায় ৪০ জনেরও বেশি আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন নিয়ে কাজ করছে। যদিও এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবে প্রশাসন এগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।
মার্কিন বিচার বিভাগের ৫২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে বর্তমান পরিস্থিতি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ প্রতিবেদনের ভূমিকায় বলেন, আগের প্রশাসনের স্থগিতাদেশ ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তার মতে, এর ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের ওষুধ সংকটের কারণে বিকল্প পদ্ধতি খুঁজতে হচ্ছে প্রশাসনকে। এ অবস্থায় ফায়ারিং স্কোয়াড, বৈদ্যুতিক চেয়ারে মৃত্যুদণ্ড এবং গ্যাস চেম্বারের মতো ঐতিহাসিক কিন্তু বিতর্কিত পদ্ধতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বরাবরের মতোই মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং নতুন পদ্ধতিগুলোকে আরও ভয়ংকর ও অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফেডারেল বিচার ব্যবস্থায় কঠোরতা ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং এটি অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন এই সিদ্ধান্ত দেশটির বিচার ও মানবাধিকার বিতর্ককে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।