ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় ইসরায়েল


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১:১১ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েল। এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। তাঁর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান চালাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া বড় কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। কাৎজের এই মন্তব্যকে বিশ্লেষকেরা নতুন করে যুদ্ধ উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হবে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে দুর্বল করে দেওয়া। তাঁর ভাষায় ব্যবহৃত কঠোর শব্দগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই অভিযান ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোর ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

তেল আবিবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব কথা বলেন কাৎজ। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রধান ইয়াল জামির, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘আমান’-এর প্রধান শ্লোমি বিন্ডারসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং যেকোনো আক্রমণ বা প্রতিরক্ষামূলক পরিস্থিতির জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ভিত্তিতে ভবিষ্যতের সব সামরিক বিকল্প খোলা রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য কেবল সামরিক বার্তা নয়, বরং এটি রাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কেন্দ্র করে কাৎজের মন্তব্যকে তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, হরমুজ প্রণালি, ইসরায়েলের উত্তর সীমান্ত এবং সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সংবেদনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই ধরনের কঠোর বক্তব্য ইরানকে প্রতিরোধমূলক অবস্থানে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা একাধিকবার সামরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার উপক্রম হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ভূমিকা এই উত্তেজনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখলেও নতুন করে সামরিক ইঙ্গিত পরিস্থিতিকে আবারও জটিল করে তুলছে।

এদিকে ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে কাৎজের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনই এখন সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করছে।

আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যার প্রভাব শুধু এই অঞ্চলে নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতেও পড়বে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর


এ সম্পর্কিত আরো খবর