সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 238
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় আগাম জাতের বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। শস্যভান্ডার খ্যাত এই অঞ্চলে এবারের ধান উৎপাদনে কৃষকদের মুখে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বাজারদর নিয়ে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও বর্তমান বাজারমূল্যে খরচই উঠছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে তাড়াশে ২২ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এসব জমি থেকে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার ৫১০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে কৃষকেরা আগাম জাতের ধান কাটা শুরু করেছেন এবং হাট-বাজারে ধান কেনাবেচাও শুরু হয়েছে।
তাড়াশ উপজেলার বারুহাস, নওগাঁ, রানীরহাট, তালম, দেশীগ্রাম, বিনসারা, কাটাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এ বছর ব্রি-৯০, সুবললতা-১, ব্রি-৮৯ ও ব্রি-২৮ জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। এসব জাতের ধানে ফলন ভালো হলেও দাম কম থাকায় কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
বারুহাস ইউনিয়নের রানীদিঘী গ্রামের কৃষক গোলাম রব্বানী বলেন, এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগাম ধান কাটা শুরু করেছি। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম খুবই কম। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।
মাধাইনগর ইউনিয়নের মাধাইনগর গ্রামের কৃষক সুকুমার বলেন, চলতি বছরে ধান কাটা শুরু করেছি। ফলন ভালো হলেও বাজারদর একেবারেই কম। দাম না বাড়লে কৃষকেরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবে না।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে ধানের বাজারদর উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কম। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন, দাম না বাড়লে বড় অংশের কৃষকই লোকসানে পড়বেন।
তবে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, এ বছর পোকামাকড়ের আক্রমণ কম ছিল এবং কৃষকেরা সময়মতো ভর্তুকি মূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ পেয়েছেন। ফলে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি অফিস নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ দিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলায় শতকরা ১ ভাগ জমিতে ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ধান কাটার কাজ সম্পূর্ণ হবে এবং কৃষকেরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে কৃষক ও স্থানীয়দের দাবি, ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে কৃষি নির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।