নিউজিল্যান্ডের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করে জিততে হলে ইতিহাস গড়তে হবে বাংলাদেশ দলকে। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করেছে নিউজিল্যান্ড। ফলে জয়ের জন্য টাইগারদের সামনে দাঁড়িয়েছে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এত বড় রান তাড়া করে জয়ের কোনো নজির নেই বাংলাদেশের। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে চারটি ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ, যার মধ্যে মাত্র একটি জয় এসেছে প্রথমে ব্যাট করে। বাকি তিনটি জয় এসেছে রান তাড়া করে, তবে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা, যা ২০২৩ সালে অর্জিত হয়েছিল।
চট্টগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় কিউইরা। দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন। তবে এরপর দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় সফরকারীরা।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার গড়ে তোলেন ৮৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ। এই জুটিই মূলত নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। দুজনেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। ক্লার্ক ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন। অন্যদিকে ক্লেভার মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে সমান ৫১ রান করে আউট হন।
এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর কিছুটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশ বোলাররা রানের গতি কিছুটা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা দলটি পরবর্তী ৫ ওভারে করে মাত্র ৩০ রান। এ সময় দ্রুত উইকেট হারায় তারা। বেভন জ্যাকবস ১ রান এবং ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
তবে শেষদিকে আবারও রানের গতি বাড়ান নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক নিক কেলি। তিনি ২৭ বলে ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। যদিও ইনিংস শেষ করে মাঠে থাকতে পারেননি তিনি। এছাড়া শেষদিকে জশ ক্লার্কসন ১৪ বলে ২৭ রান করে দলের স্কোর আরও বাড়ান এবং নাথান স্মিথ ৪ বলে ২ রান যোগ করেন।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিশাদ হোসেন, যিনি দুটি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া দলের আরও তিনজন বোলার একটি করে উইকেট নেন।
মোট ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ। টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড ভাঙতে হবে টাইগারদের। ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা এবং শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলাই হতে পারে জয়ের মূল চাবিকাঠি।
সামগ্রিকভাবে, ম্যাচটি এখন উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। টাইগাররা যদি এই লক্ষ্য ছুঁতে পারে, তবে সেটি হবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে তাদের ইতিহাসের সেরা রান তাড়া করে জয়।