যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তির একটি বড় অংশ ইতিমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে, অন্যদিকে তেহরানের হাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘কার্ড’ রয়েছে, যা প্রয়োজনে কাজে লাগানো হতে পারে।
রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের ধারণা নাকচ করে বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় ইরান এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
বাঘের গালিবাফ তার বক্তব্যে একটি প্রতীকী সমীকরণের মাধ্যমে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। তার মতে, ইরানের শক্তির উৎস মূলত সরবরাহভিত্তিক—যার মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি, বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং তেল পরিবহনের পাইপলাইন। এই রুটগুলো বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপগুলোকে তিনি চাহিদাভিত্তিক হিসেবে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়, জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য মূল্য সমন্বয়। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে এসব পদক্ষেপের অনেকটাই ব্যবহার করেছে বা আংশিকভাবে প্রয়োগ করেছে।
তেহরানের ‘কার্ড’ প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালির বিষয়টি আংশিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে বাব এল-মান্দেব প্রণালি এবং তেলের পাইপলাইন সম্পর্কিত বিকল্প এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি। তার ভাষায়, এগুলো প্রয়োজনে ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হতে পারে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশটি ইতোমধ্যে কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ছে। পাশাপাশি জ্বালানির চাহিদা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ভবিষ্যতে জ্বালানির দামে আরও সমন্বয় হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার দিকেও ইঙ্গিত করেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার। তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির চাহিদা সাধারণত বৃদ্ধি পায়, যা তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
সবশেষে তিনি একটি প্রতীকী বার্তা দিয়ে বলেন, “ওরা কার্ড নিয়ে বড়াই করছে। দেখা যাক—সরবরাহ কার্ড বনাম চাহিদা কার্ড।” তার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের কৌশলগত অবস্থান মূল্যায়ন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে।