ভারতের মুম্বাইয়ের পাইধুনি এলাকায় বিরিয়ানি ও তরমুজ খাওয়ার পর বিষক্রিয়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মুম্বাই পুলিশ সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহতরা হলেন আব্দুল্লাহ দোকাদিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাসরিন দোকাদিয়া (৩৫), এবং তাদের দুই কন্যা আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১৩)। একই পরিবারের চারজনের একসঙ্গে মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গত ২৫ এপ্রিল রাতে আব্দুল্লাহ দোকাদিয়া তার পরিবার ও কিছু আত্মীয়কে নিয়ে বাড়িতে বিরিয়ানি দিয়ে নৈশভোজ করেন। খাবার শেষ হওয়ার পর আত্মীয়রা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে যান। এরপর রাত প্রায় দেড়টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তরমুজ খান বলে জানা গেছে।
এরপরই ঘটতে থাকে অস্বাভাবিক শারীরিক সমস্যা। পরদিন ২৬ এপ্রিল ভোরের দিকে পরিবারের চার সদস্যই তীব্র বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। তাদের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে স্বজনরা তাদের মুম্বাইয়ের জেজে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে ছোট মেয়ে জয়নাবের মৃত্যু হয়। এরপর রাতের দিকে বাবা আব্দুল্লাহ দোকাদিয়ার মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা নাসরিন দোকাদিয়া এবং বড় মেয়ে আয়েশাও মৃত্যুবরণ করেন। একে একে পুরো পরিবার হারিয়ে ফেলে প্রাণ।
মুম্বাই পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি খাদ্যজনিত বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও, ঠিক কোন খাবার বা উপাদানের কারণে এই মৃত্যু হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এ ঘটনায় জেজে মার্গ থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মৃতদেহগুলোর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তবে চূড়ান্ত কারণ জানতে হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, বিরিয়ানি কিংবা তরমুজ—কোন খাবারে বিষক্রিয়া ঘটেছে, নাকি সংরক্ষণ বা পরিবেশগত কোনো কারণে এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। একই পরিবারের চার সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেকেই খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে প্রাথমিক সব সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় আরও কোনো অবহেলা বা অপরাধমূলক দিক রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি এখন ভারতের স্থানীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা এবং রেস্তোরাঁ ও ঘরোয়া খাবার সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিষয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।