মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রস্তাব বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তেহরানের এই প্রস্তাব এখন মার্কিন নীতিনির্ধারকদের আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সকালে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ইরানের পাঠানো প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়। তিনি জানান, বৈঠক শেষ হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, তবে বিষয়টি এখনো সক্রিয় আলোচনার অংশ।
ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে এই প্রস্তাবের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও যুক্ত করেছে তেহরান। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান বিতর্ক আপাতত স্থগিত রাখতে হবে এবং এ বিষয়ে আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য স্থগিত করা উচিত।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট, যার মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালির নিরাপত্তা ও খোলা থাকা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
ইরানের এই কূটনৈতিক প্রস্তাবের পরও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো কঠোর রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আরও জানান, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে পারমাণবিক ইস্যু একটি ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে একটি নতুন মোড় তৈরি করেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রস্তাবটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও এতে শর্ত জুড়ে দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনো সম্পূর্ণ বিপরীত।
বর্তমানে ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাব নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে নাকি নতুন কোনো কঠোর শর্ত আরোপ করা হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে কোনো সমঝোতা হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।