ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

নাফ নদীতে জেলেদের আতঙ্ক, ৯ মাসে ৩২২ জন অপহরণ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:৩৪ পিএম

কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলাকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে আলাদা করেছে নাফ নদী। এই নদীর মোহনা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ সাগর এলাকায় মাছ ধরেই মূলত জীবিকা নির্বাহ করেন স্থানীয় বাংলাদেশি জেলেরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আরাকান আর্মির অপহরণ আতঙ্কে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।

স্থানীয় জেলেরা জানান, গত ৯ মাসে নাফ নদী ও সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ৩২২ জনেরও বেশি জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনায় অনেকেই এখন সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। যারা ফিরে এসেছেন, তারা জানিয়েছেন অপহরণের পর তাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হয় না এবং অনেককে জোরপূর্বক কাজ করানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অপহৃত জেলেদের পরিবারগুলো চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছে। অনেক জেলে এখনও মিয়ানমারের বন্দী অবস্থায় রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দেশের জলসীমার ভেতরে অবস্থান করলেও অনেক সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের ধরে নিয়ে যায়।

নাফ নদীর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে কোস্টগার্ড ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তারা নিয়মিত টহল পরিচালনা করলেও জেলেরা অনেক সময় সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমার দিকে চলে যান। বিশেষ করে বেশি মাছ পাওয়ার আশায় তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই বছরে প্রায় ৫০০ জন জেলে বিভিন্ন সময়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হয়েছেন। এর মধ্যে গত ৯ মাসেই ৩২২ জনের বেশি জেলে অপহরণের শিকার হন। অপহৃতদের মধ্যে প্রায় ৩০০ জনকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনো শতাধিক জেলে মিয়ানমারে বন্দী আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জেলে জানান, মিয়ানমার সীমান্তের কাছাকাছি একটি খাঁড়ি ব্যবহার করে তারা আগে মাছ ধরতেন, কিন্তু এখন সেখানে গেলে আরাকান আর্মির সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়। আটক করার পর তাদের মারধর করা হয় এবং খাবার না দিয়ে কাজ করানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

আরেক জেলে জানান, তিনি রমজান মাসে মাছ ধরতে গিয়ে আটক হন। তখন তাদের ট্রলারে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকার মাছসহ জ্বালানি ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। পরে কিছু সময় আটকে রেখে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

নাফ নদীর নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড নিয়মিত টহল জোরদার করেছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। অপহৃতদের ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার শাহীন আলম বলেন, স্থানীয় জেলেরা বেশি মাছ পাওয়ার আশায় সীমান্ত অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় চলে যান। সেখানে গেলে অনেক সময় আরাকান আর্মি তাদের আটক করে। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়।

এছাড়া জেলেদের সচেতন করতে সীমান্ত ঝুঁকি নিয়ে নিয়মিত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে। তবুও জীবিকার তাগিদে অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে সাগরে নামছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর