ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার রাজধানীতে সকালের বৃষ্টিতে সড়কে ভোগান্তি, ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস ইয়েমেনে ফের তীব্র সংঘাত, ১২৯টি হামলার দাবি হুথিদের

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই ডুবল চট্টগ্রাম, চরম ভোগান্তি


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৬:২১ পিএম

টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে আবারও তলিয়ে গেছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার পর শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা পানিতে ডুবে গিয়ে জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে প্রবর্তক মোড়সহ আশপাশের এলাকায় কোমরসমান পানি জমে যায়, ফলে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

বৃষ্টির কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও জরুরি সেবাগ্রহীতারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে ডিভাইডার ও উঁচু জায়গা দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসে দুপুর ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৮৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা নগরীর জলাবদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজার সংলগ্ন প্রধান সড়ক সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক যানবাহন মাঝরাস্তায় বিকল হয়ে পড়ে থাকে। কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও গলাসমান পানি মাড়িয়ে মানুষকে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। অনেক পথচারীকে রোড ডিভাইডার ও উঁচু রাস্তায় দাঁড়িয়ে চলাচল করতে দেখা যায়।

রিকশাচালকদের অবস্থাও ছিল ভয়াবহ। কোথাও রিকশার সিট পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়, আর চালকরা বুকসমান পানির মধ্যে রিকশা টেনে নিয়ে যান। এতে যাত্রী ও চালক উভয়েই চরম দুর্ভোগে পড়েন।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও আশপাশের ক্লিনিকগুলোতে যাতায়াতও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। জরুরি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলেও বাধার সৃষ্টি হয়, অনেক রোগীকে কষ্ট করে হাসপাতালে পৌঁছাতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালের কালভার্ট এলাকায় মাটি ফেলে সংস্কার কাজ চলায় এবং যন্ত্রপাতি ফেলে রাখার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের ধীরগতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে না পারায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।

শুধু প্রবর্তক মোড়ই নয়, তিনপুল এলাকায় সড়কে কোমরসমান পানি দেখা যায়। সেখানে পার্কিং করা মোটরসাইকেলগুলো পানিতে ভেসে যেতে দেখা গেছে। ডবলমুরিং থানার পশ্চিমে রূপসা বেকারি মোড়েও হাঁটুসমান পানি জমে যায়। মুরাদপুর, শুলকবহর, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, জামালখান বাইলেন, ইপিজেড ও অক্সিজেন মোড়সহ বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

অনেক বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ে। নিচু এলাকার বাসিন্দারা ঘরবন্দি হয়ে পড়েন, কেউ কেউ পানি সরানোর চেষ্টা করেন কিন্তু বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে জলাবদ্ধতা কমাতে গত সপ্তাহ থেকেই মাসব্যাপী খাল-নালা পরিষ্কার অভিযান শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনকালে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নালা-নর্দমা ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়াই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ।

তিনি বলেন, কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও বাসিন্দার কারণে নালা-নর্দমা এখন বর্জ্য ফেলার স্থানে পরিণত হয়েছে। জনগণ সচেতন না হলে কোনো সরকারি উদ্যোগই দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।

বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) মেগা প্রকল্পের আওতায় নগরের ৩৬টি খাল সংস্কারের কাজ করছে। তবে হিজড়া খাল ও জামালখান খালের কাজ এখনো সম্পন্ন না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা চলমান রয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, সিডিএর খাল সংস্কার কার্যক্রম চলমান থাকায় সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। তবে এসব কাজ সম্পন্ন হলে দীর্ঘমেয়াদে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে।

তিনি জানান, আগামী ১৫ মে’র মধ্যে সিডিএর খাল সংস্কার কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কাজ শেষ হলে চলমান বর্ষা মৌসুমেই নগরীর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘদিনের, যার মূল কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল ও অপর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থা। সামান্য বৃষ্টিতেই তাই শহরের বড় অংশ পানির নিচে চলে যায়।

নগরবাসীর মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, খাল পুনরুদ্ধার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিক না করলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তারা দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর