ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেস্টে নাঈম হাসানের প্রথম ফিফটি, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৭০ রানের টার্গেট এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত: পাস ৫২.১২% ৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা

লিমন-বৃষ্টি হত্যা: চ্যাটজিপিটি ব্যবহার, তদন্তে ওপেনএআই


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:০৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম ওপেনএআইকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় চলমান অপরাধ তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত করেছেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডাব্লিউজিএমই সিবিএস ১৩-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদে লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ লাশ গুম করার পরিকল্পনায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন। আদালতের নথিতে এই তথ্য প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্তের আওতায় আনা হয়।

সোমবার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমিয়ার ঘোষণা দেন, এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে, অপরাধ সংঘটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কোনো ভূমিকা ছিল কি না—তা তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগীরা নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন আগেই অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহ চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য অনুসন্ধান করেন। এর মধ্যে ছিল লাশ গুম করার উপায়, আগ্নেয়াস্ত্র সম্পর্কিত তথ্য এবং কাউকে ট্র্যাক করার কৌশল। তদন্তকারীরা এসব তথ্যকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করছেন।

এটি প্রথম ঘটনা নয় যেখানে অপরাধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে একটি গণগুলিবর্ষণের ঘটনাতেও চ্যাটজিপিটির ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছিল। ফলে প্রযুক্তির দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

এদিকে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রিউ পুসাতেরি গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে এবং যেকোনো ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

নিহত জামিল আহমেদে লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির পরিবার অভিযুক্ত হিশাম আবুঘরবেহর সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। একই সঙ্গে তারা অভিযুক্তের বসবাসরত অফ-ক্যাম্পাস আবাসন অ্যাভালন হাইটস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, ওই আবাসনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না এবং ভাড়াটিয়ার পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও গাফিলতি ছিল।

তথ্য অনুযায়ী, ২৭ বছর বয়সী লিমন ও বৃষ্টিকে সর্বশেষ গত ১৬ এপ্রিল দেখা যায়। এরপর তারা নিখোঁজ হন। পরে লিমনের মরদেহ হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকায় একটি কালো ট্র্যাশ ব্যাগের ভেতর উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, ওই ব্যাগটি অভিযুক্তের কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যাগের সঙ্গে মিলে গেছে।

অন্যদিকে, নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে পুলিশ কিছু পরিচয়হীন দেহাংশ উদ্ধার করেছে, যা তার হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা চলছে।

হিশাম আবুঘরবেহকে গত শুক্রবার একটি পৃথক ঘরোয়া সহিংসতার ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে তিনি ফ্যালকেনবার্গ রোড জেলে বন্দি রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার, মরদেহ গুম করা, প্রমাণ নষ্ট করা সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের কক্ষে পাওয়া রক্তের দাগ এবং তার অনলাইন অনুসন্ধানের তথ্য মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ঘটনায় প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে অপরাধে সহায়ক হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর