ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ আসর যেন ব্যাটিং উৎসবে পরিণত হয়েছে। লক্ষ্য তাড়ায় একের পর এক রেকর্ড গড়ে এবারের আসর ছাড়িয়ে গেছে আগের সব আসরকে। ইতোমধ্যেই চলতি মৌসুমে ১০টি ম্যাচে দুইশ’র বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়া হয়েছে, যা আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ফলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে রায়ান রিকেলটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিও শেষ পর্যন্ত ম্লান হয়ে গেছে।
বুধবার ওয়ানখেড়ে স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ২৪৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয় তুলে নেয়। এতে করে আইপিএলের চতুর্থ সর্বোচ্চ রানতাড়ার রেকর্ড গড়েছে দলটি। শুধু তাই নয়, তারা এই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৮ বল এবং ৬ উইকেট হাতে রেখে—যা ম্যাচটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ৫ উইকেটে ২৪৩ রান তোলে, যা ওয়ানখেড়েতে টি-টোয়েন্টির প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ সংগ্রহ। দলের হয়ে ঝড় তোলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটার রায়ান রিকেলটন। তিনি ৫৫ বলে ১২৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ১০টি চার ও ৮টি ছক্কা। মাত্র ৪৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে মুম্বাইয়ের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েন তিনি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল সনৎ জয়সুরিয়ার দখলে, যিনি ২০০৮ সালে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। শুধু দ্রুততম সেঞ্চুরি নয়, মুম্বাইয়ের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও নিজের করে নেন রিকেলটন, ভেঙে দেন জয়সুরিয়ার ১১৪ রানের পুরোনো রেকর্ড।
রিকেলটনের সঙ্গে শুরুতে ঝড় তোলেন উইল জ্যাকস। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে তারা ৭৮ রান তোলেন। জ্যাকস ২২ বলে ৪৬ রান করে ফিরে গেলেও রিকেলটন শেষ পর্যন্ত ব্যাট চালিয়ে যান। শেষদিকে অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার ১৫ বলে ৩১ রানের ক্যামিও মুম্বাইকে বড় সংগ্রহ এনে দেয়।
তবে হায়দরাবাদের ব্যাটারদের সামনে এই লক্ষ্যও নিরাপদ ছিল না। ট্রাভিস হেড ও অভিষেক শর্মার উদ্বোধনী জুটি শুরু থেকেই তাণ্ডব চালায়। পাওয়ার প্লেতেই তারা তুলে ফেলেন ৯২ রান। দুই দল মিলে পাওয়ার প্লেতে ১৭০ রান করার মাধ্যমে নতুন এক যৌথ রেকর্ডও গড়ে।
অভিষেক ২৪ বলে ৪৫ রান করে আউট হলেও ট্রাভিস হেড চালিয়ে যান ঝড়। তিনি ৩০ বলে ৭৬ রান করেন, যেখানে ছিল ৪টি চার ও ৮টি ছক্কা। এরপর হেইনরিখ ক্লাসেন ও সলিল অরোরার ব্যাটে জয় নিশ্চিত হয়। ক্লাসেন ৩০ বলে ৬৫ এবং সলিল ১০ বলে ৩০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত ৪১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, বাকি আছে আরও ৩৩টি ম্যাচ। অথচ এর মধ্যেই ১০টি ম্যাচে দুইশ’র বেশি রান তাড়া করে জয়ের নজির গড়া হয়েছে। ২০২৫ আসরে এই সংখ্যা ছিল ৯টি। এছাড়া সম্প্রতি টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬৪ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ডও হয়েছে।
সব মিলিয়ে, আইপিএল ২০২৬ যেন নতুন এক ব্যাটিং বিপ্লবের সাক্ষী হয়ে উঠেছে। বড় স্কোর এখন আর নিরাপদ নয়—এটাই যেন এবারের আসরের সবচেয়ে বড় বার্তা।